আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলে দোলাও,
কে আমারে কী-যে বলে ভোলাও ভোলাও ॥
ওরা কেবল কথার পাকে নিত্য আমায় বেঁধে রাখে,
বাঁশির ডাকে সকল বাঁধন খোলাও ॥
মনে পড়ে, কত-না দিন রাতি
আমি ছিলেম তোমার খেলার সাথী।
আজকে তুমি তেমনি ক'রে সামনে তোমার রাখো ধরে,
আমার প্রাণে খেলার সে ঢেউ তোলাও ॥
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1328
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1921
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
Monday, October 24, 2016
আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলে
Thursday, September 8, 2016
আমারে তুমি অশেষ করেছ
আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব–
ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব।।
কত-যে গিরি কত-যে নদী -তীরে
বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে,
কত-যে তান বাজালে ফিরে ফিরে
কাহারে তাহা কব।।
তোমারি ওই অমৃতপরশে আমার হিয়াখানি
হারালো সীমা বিপুল হরষে, উথলি উঠে বাণী।
আমার শুধু একটি মুঠি ভরি
দিতেছ দান দিবস-বিভাবরী–
হল না সারা, কত-না যুগ ধরি
কেবলই আমি লব।।
-
রাগ: ছায়ানট
তাল: ঝম্পক
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ৭ বৈশাখ, ১৩১৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1912
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভীমরাও শাস্ত্রী
Tuesday, August 16, 2016
মোর প্রভাতের এই প্রথম খনের কুসুমখানি
মোর প্রভাতের এই প্রথম খনের কুসুমখানি
তুমি জাগাও তারে ওই নয়নের আলোক হানি ॥
সে যে দিনের বেলায় করবে খেলা হাওয়ায় দুলে,
রাতের অন্ধকারে নেবে তারে বক্ষে তুলে--
ওগো তখনি তো গন্ধে তাহার ফুটবে বাণী ॥
আমার বীণাখানি পড়ছে আজি সবার চোখে,
হেরো তারগুলি তার দেখছে গুনে সকল লোকে।
ওগো কখন সে যে সভা ত্যেজে আড়াল হবে,
শুধু সুরটুকু তার উঠবে বেজে করুণ রবে--
যখন তুমি তারে বুকের 'পরে লবে টানি ॥
-
রাগ: রামকেলী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1321
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1914
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
Saturday, May 7, 2016
হে নূতন, দেখা দিক আর- বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
আজ ২৫শে বৈশাখ
কবিগুরুর জন্মদিন তাকে জানাই
আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ।।
-
হে নূতন,
দেখা দিক আর-
বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন ।
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন ।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় ।
উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ ।।
Sunday, April 24, 2016
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
টুকরো করে কাছি,
ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি॥
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায়
তারি পিছে গো,
রেখো না আর, বেঁধো না আর কুলের
কাছাকাছি॥
মাঝির লাগি আছি জাগি সকল
রাত্রিবেলা,
ঢেউগুলো যে আমায় নিয়ে করে কেবল
খেলা।
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার
ভ্রুকুটিতে
দাও ছেরে দাও, ওগো, আমি তুফান পেলে
বাঁচি॥
Saturday, March 5, 2016
দিনান্তবেলায় শেষের ফসল নিলেম তরী-পরে,
দিনান্তবেলায় শেষের ফসল নিলেম তরী-'পরে,
এ পারে কৃষি হল সারা,
যাব ও পারের ঘাটে॥
হংসবলাকা উড়ে যায়
দূরের তীরে, তারার আলোয়,
তারি ডানার ধ্বনি বাজে মোর অন্তরে॥
ভাঁটার নদী ধায় সাগর-পানে কলতানে,
ভাবনা মোর ভেসে যায় তারি টানে।
যা-কিছু নিয়ে চলি শেষ সঞ্চয়
সুখ নয় সে, দঃখ সে নয়, নয় সে কামনা--
শুনি শুধু মাঝির গান আর দাঁড়ের
ধ্বনি তাহার স্বরে॥
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ৩০ ফাল্গুন, ১৩৪৫
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৪ মার্চ, ১৯৩৯
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার
Friday, March 4, 2016
আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি, তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি,
তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
নিশিদিন হেথায় বসে আছি,
তোমার যখন মনে পড়ে আসিয়ো ॥
আমি সারানিশি তোমা-লাগিয়া
রব বিরহশয়নে জাগিয়া--
তুমি নিমেষের তরে প্রভাতে
এসে মুখপানে চেয়ে হাসিয়ো ॥
তুমি চিরদিন মধুপবনে
চির-বিকশিত বনভবনে
যেয়ো মনোমত পথ ধরিয়া
তুমি নিজ সুখস্রোতে ভাসিয়ো।
যদি তার মাঝে পড়ি আসিয়া
তবে আমিও চলিব ভাসিয়া,
যদি দূরে পড়ি তাহে ক্ষতি কী--
মোর স্মৃতি মন হতে নাশিয়ো ॥
-
রাগ: মিশ্র গৌরী
তাল: কাহারবা-দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1296
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1889
আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
তুমি জান না, আমি তোমারে পেয়েছি অজানা সাধনে॥
সে সাধনায় মিশিয়া যায় বকুলগন্ধ,
সে সাধনায় মিলিয়া যায় কবির ছন্দ--
তুমি জান না, ঢেকে রেখেছি তোমার নাম
রঙিন ছায়ার আচ্ছাদনে॥
তোমার অরূপ মূর্তিখানি
ফাল্গুনের আলোতে বসাই আনি।
বাঁশরি বাজাই ললিত-বসন্তে, সুদূর দিগন্তে
সোনার আভায় কাঁপে তব উত্তরী
গানের তানের সে উন্মাদনে॥
-
রাগ: বাহার-সোহিনী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১৩৪৫
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): মার্চ, ১৯৩৯
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার
এত ফুল কে ফোটালে কাননে
এত ফুল কে ফোটালে কাননে !
লতাপাতায় এত হাসি -
তরঙ্গ মরি কে ওঠালে।।
সজনীর বিয়ে হবে ফুলেরা শুনেছে সবে—
সে কথা কে রটালে।।
-
রাগ: মিশ্র কালাংড়া
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১২৯০
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883
Thursday, March 3, 2016
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে --
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে!
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।
তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,
পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ্-কথার–
পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা মনে মনে।।
সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি মেঘে মেঘে
আকাশ-কুসুম তুলি।
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে
আমি যাই ভেসে দূর দিশে–
পরীর দেশের বন্ধ দুয়ার দিই হানা মনে মনে।।
-
রাগ: কীর্তন
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1346
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1939
স্বরলিপিকার: শান্তিদেব ঘোষ,
শৈলজারঞ্জন মজুমদার
Tuesday, March 1, 2016
ছুটির বাঁশি বাজল যে ওই নীল গগনে,
ছুটির বাঁশি বাজল যে ওই নীল গগনে,
আমি কেন একলা বসে এই বিজনে॥
বাঁধন টুটে উঠবে ফুটে শিউলিগুলি,
তাই তো কুঁড়ি কানন জুড়ি উঠছে দুলি,
শিশির-ধোওয়া হাওয়ার ছোঁওয়া লাগল বনে—
সুর খুঁজে তাই শূন্যে তাকাই আপন-মনে॥
বনের পথে কী মায়াজাল হয় যে বোনা,
সেইখানেতে আলোছায়ার চেনাশোনা।
ঝরে-পড়া মালতী তার গন্ধশ্বাসে
কান্না-আভাস দেয় মেলে ওই ঘাসে ঘাসে,
আকাশ হাসে শুভ্র কাশের আন্দোলনে—
সুর খুঁজে তাই শূন্যে তাকাই আপন-মনে॥
দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি ---
দিয়ে গেনু বসন্তের এই গানখানি—
বরষ ফুরায়ে যাবে, ভুলে যাবে জানি॥
তবু তো ফাল্গুনরাতে এ গানের বেদনাতে
আঁখি তব ছলোছলো, এই বহু মানি॥
চাহি না রহিতে বসে ফুরাইলে বেলা,
তখনি চলিয়া যাব শেষ হলে খেলা।
আসিবে ফাল্গুন পুন, তখন আবার শুনো
নব পথিকেরই গানে নূতনের বাণী॥
আমার ভিনদেশী তারা একা রাতেরই আকাশে--
আমার ভিনদেশী তারা
একা রাতেরই আকাশে...
তুমি বাজালে একতারা
আমার চিলেকোঠার পাশে,
ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে
তোমার নাম ধরে কেউ ডাকে,
মুখ লুকিয়ে কার বুকে
তোমার গল্প বলো কাকে?
আমার রাত জাগা তারা
তোমার অন্য পাড়ায় বাড়ি,
আমার ভয় পাওয়া চেহারা
আমি আদতে আনাড়ি।
আমার আকাশ দেখা ঘুড়ি
কিছু মিথ্যে বাহাদুরী,
আমার চোখ বেঁধে দেও আলো
দাও শান্ত শীতল পাটি...
তুমি মায়ের মতোই ভাল
আমি একলাটি পথ হাঁটি।
আমার বিচ্ছিরি এক তারা
তুমি নাও না কথা কানে,
তোমার কিসের এতো তাড়া?
এ রাস্তা পার হবে সাবধানে...
তোমার গায়ে লাগে না ধূলো
আমার দুমুঠো চাল-চুলো,
রাখো শরীরে হাত যদি
আর জল মাখো দুই হাত...
প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে
আমার মন খারাপের রাতে।
আমার রাত জাগা তারা
তোমার আকাশ ছোঁয়া বাড়ি...
আমি পাই না ছুঁতে তোমায়
আমার একলা লাগে ভারী
আমি পাই না ছুঁতে.. তোমায়..
আমার একলা লাগে ভারী .. ..
Monday, February 29, 2016
আমি চঞ্চল হে, আমি সুদূরের পিয়াসি।
আমি চঞ্চল হে,
আমি সুদূরের পিয়াসি।
দিন চলে যায়, আমি আনমনে তারি
আশা চেয়ে থাকি বাতায়নে--
ওগো, প্রাণে মনে আমি যে তাহার পরশ
পাবার প্রয়াসী॥
ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর,
তুমি যে বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি--
মোর ডানা নাই, আছি এক ঠাঁই
সে কথা যে যাই পাশরি॥
আমি উন্মনা হে,
হে সুদূর, আমি উদাসী॥
রৌদ্র-মাখানো অলস বেলায় তরুমর্মরে
ছায়ার খেলায়
কী মুরতি তব নীল আকাশে নয়নে উঠে
গো আভাসি।
হে সুদূর, আমি উদাসী।
ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর,
তুমি যে বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি--
কক্ষে আমার রুদ্ধ দুয়ার সে কথা
যে যাই পাশরি॥
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1309
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1902
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি
একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি--
তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী।
কিছু পলাশের নেশা, কিছু বা চাঁপায় মেশা,
তাই দিয়ে সুরে সুরে রঙে রসে জাল বুনি॥
যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে।
যেটুকু যায় রে দূরে ভাবনা কাঁপায় সুরে,
তাই নিয়ে যায় বেলা নূপুরের তাল গুনি॥
-
রাগ: কালাংড়া
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২ ফাল্গুন, ১৩৩৪
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
Wednesday, February 24, 2016
পাতার ভেলা ভাসাই নীরে, পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥
পাতার ভেলা ভাসাই নীরে,
পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥
কর্ম আমার বোঝাই ফেলা,
খেলা আমার চলার খেলা।
হয় নি আমার আসন মেলা,
ঘর বাঁধি নি স্রোতের তীরে ॥
বাঁধন যখন বাঁধতে আসে
ভাগ্য আমার তখন হাসে।
ধুলা-ওড়া হাওয়ার ডাকে পথ
যে টেনে লয় আমাকে--
নতুন নতুন বাঁকে বাঁকে
গান দিয়ে যাই ধরিত্রীরে ॥
-
রাগ: পিলু-বৃন্দাবনী সারং
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): চৈত্র, ১৩৩২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1926
Sunday, February 21, 2016
এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু
এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু;
নীরবে ছিলে করি নয়ন নিচু।
রাজ-অঙ্গুরী মম করিলাম দান,
তোমারে দিলাম মোর শেষ সম্মান।
তব বীর-হাতে এই ভূষণের সাথে
আমার প্রণাম যাক তব পিছু পিছু।
Saturday, February 13, 2016
কত যে তুমি মনোহর মনই তাহা জানে,
কত যে তুমি মনোহর মনই তাহা জানে,
হৃদয় মম থরোথরো কাঁপে তোমার গানে॥
আজিকে এই প্রভাতবেলা মেঘের সাথে রোদের খেলা,
জলে নয়ন ভরোভরো চাহি তোমার পানে॥
আলোর অধীর ঝিলিমিলি নদীর ঢেউয়ে ওঠে,
বনের হাসি খিলিখিলি পাতায় পাতায় ছোটে।
আকাশে ওই দেখি কী যে—
তোমার চোখের চাহনি যে।
সুনীল সুধা ঝরোঝরো ঝরে
আমার প্রাণে॥
Friday, February 12, 2016
যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে --
যদি তারে নাই চিনি গো
সে কি আমায় নেবে চিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে জানি নে॥
সে কি আমার কুঁড়ির কানে
কবে কথা গানে গানে,
পরান তাহার নেবে কিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে, জানি নে॥
সে কি আপন রঙে ফুল রাঙাবে।
সে কি মর্মে এসে ঘুম ভাঙাবে।
ঘোমটা আমার নতুন পাতার হঠাৎ
দোলা পাবে কি তার। ,
গোপন কথা নেবে জিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে--
জানি নে, জানি নে॥
মনে রবে কি না রবে আমারে সে আমার মনে নাই।
মনে রবে কি না রবে আমারে
সে আমার মনে নাই।
ক্ষণে ক্ষণে আসি তব দুয়ারে,
অকারণে গান গাই॥
চলে যায় দিন, যতখন আছি পথে
যেতে যদি আসি কাছাকাছি
তোমার মুখের চকিত সুখের হাসি
দেখিতে যে চাই--
তাই অকারণে গান গাই॥
ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া
ফাগুনের অবসানে--
ক্ষণিকের মুঠি দেয় ভরিয়া,
আর কিছু নাহি জানে।
ফুরাইবে দিন, আলো হবে ক্ষীণ,
গান সারা হবে, থেমে যাবে বীন,
যতখন থাকি ভরে দিবে না কি এ খেলারই ভেলাটাই--
তাই অকারণে গান গাই॥
-
রাগ: খাম্বাজ
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৯ ফাল্গুন, ১৩৩৩
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৩ মার্চ, ১৯২৭
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে,
কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে,
তখন তুমি ছিলে না মোর সনে॥
যে কথাটি বলব তোমায় ব’লে কাটল জীবন নীরব চোখের জলে
সেই কথাটি সুরের হোমানলে উঠল জ্বলে একটি আঁধার ক্ষণে—
তখন তুমি ছিলে না মোর সনে॥
ভেবেছিলেম আজকে সকাল হলে
সেই কথাটি তোমায় যাব বলে।
ফুলের উদাস সুবাস বেড়ায় ঘুরে,
পাখির গানে আকাশ গেল পূরে,
সেই কথাটি লাগল না সেই সুরে যতই প্রয়াস করি পরানপণে—
যখন তুমি আছ আমার সনে॥
Thursday, February 11, 2016
আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান,
আমি হেথায় থাকি শুধু
গাইতে তোমার গান,
দিয়ো তোমার জগৎসভায়
এইটুকু মোর স্থান।
আমি তোমার ভুবন-মাঝে
লাগি নি নাথ, কোনো কাজে--
শুধু কেবল সুরে বাজে
অকাজের এই প্রাণ।
নিশায় নীরব দেবালয়ে
তোমার আরাধন,
তখন মোরে আদেশ কোরো
গাইতে হে রাজন্।
ভোরে যখন আকাশ জুড়ে
বাজবে বীণা সোনার সুরে
আমি যেন না রই দূরে
এই দিয়ো মোর মান।
Friday, February 5, 2016
DinGuli Mor Sonar Khanchay - দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
আমার প্রাণের গানের ভাষা
শিখবে তারা ছিল আশা--
উড়ে গেল, সকল কথা কইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
স্বপন দেখি, যেন তারা কার আশে
ফেরে আমার ভাঙা খাঁচার চার পাশে--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
এত বেদন হয় কি ফাঁকি।
ওরা কি সব ছায়ার পাখি।
আকাশ-পারে কিছুই কি গো বইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
-
রাগ: ইমন-পূরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1325
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1918
Sunday, January 24, 2016
এসো আমার ঘরে।
এসো আমার ঘরে।
বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছ অন্তরে॥
স্বপনদুয়ার খুলে এসো অরুণ-আলোকে
মুগ্ধ এ চোখে।
ক্ষণকালের আভাস হতে চিরকালের তরে
এসে আমার ঘরে॥
দুঃখসুখের দোলে এসো,
প্রাণের হিল্লোলে এসো।
ছিলে আশার অরূপ বাণী ফাগুনবাতাসে
বনের আকুল নিশ্বাসে--
এবার ফুলের প্রফুল্ল রূপ এসো বুকের 'পরে॥
Friday, January 22, 2016
Tumi Ektu Kebol boshte Deyo Kache - তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে,
তুমি একটু কেবল বসতে দিয়ো কাছে
আমায় শুধু ক্ষণেক তরে।
আজি হাতে আমার যা কিছু কাজ আছে
আমি সাঙ্গ করব পরে।
না চাহিলে তোমার মুখপানে
হৃদয় আমার বিরাম নাহি জানে,
কাজের মাঝে ঘুরে বেড়াই যত
ফিরি কূলহারা সাগরে॥
বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিশ্বাসে
এল আমার বাতায়নে।
অলস ভ্রমর গুঞ্জরিয়া আসে
ফেরে কুঞ্জের প্রাঙ্গণে।
আজকে শুধু একান্তে আসীন
চোখে চোখে চেয়ে থাকার দিন,
আজকে জীবন-সমর্পণের গান
গাব নীরব অবসরে॥
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৯ চৈত্র, ১৩১৮
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1912
রচনাস্থান: শিলাইদহ
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভীমরাও শাস্ত্রী